Dhaka 5:35 pm, Wednesday, 24 June 2026

ইতিহাসের শক্তিশালী এল নিনোতে পুড়ছে ইউরোপ: শুধু ফ্রান্সেই নদী-খালে নেমে মারা গেলেন ৪০ জন মানুষ, গাড়ির ভেতর দমবন্ধ হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : 07:25:29 am, Wednesday, 24 June 2026
  • / 39 Time View

ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট গরমে অতিষ্ঠ হয়ে নদী ও খালে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুধু ফ্রান্সেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন ও ইতালিতেও পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ নদী, হ্রদ ও খালে নামছেন। ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী মারিনা ফেরারি ফরাসি রেডিওকে বলেন, ‘তীব্র তাপদাহের সময় লাইফগার্ড বা নজরদারি নেই এমন জায়গায় সাঁতার কাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।’

ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘মেতেও ফ্রান্স’ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে ইতিহাসের উষ্ণতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার রাতে দেশের ইতিহাসে উষ্ণতম রাত রেকর্ড করা হয়, যেখানে গড় ন্যূনতম তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে ফ্রান্সের অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।

তীব্র দাবদাহের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফ্রান্সজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করেই নদী ও খালে ঝাঁপ দিচ্ছেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় ফন্টেইন-লা পোর্ট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে সিন নদীতে গোসল করতে গিয়ে ১৩ বছরের এক কিশোরী তলিয়ে যায়। মেয়েটি সাঁতার জানত না। লিয়নের কাছে রোন নদীতে ডুবে যাওয়ার পর এক তরুণ পেশাদার ফুটবলারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ, সেখানে বিপদে পড়া চার তরুণকে উদ্ধারে কাজ করছে জরুরি বিভাগ।

এ ছাড়া গত সোমবার ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় কার্পেনত্রাস শহরের একটি পার্কিং লটে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তীব্র গরমে গাড়ির ভেতর দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি জার্মানিতেও দেখা যাচ্ছে। সেখানে তীব্র গরমে নদীতে নেমে কয়েকজন নিখোঁজ ও প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মান লাইফসেভিং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষেরা সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। রাইন নদীতে নিখোঁজ হওয়া তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে তীব্র গরমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার এবং বাড়ি থেকে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রেললাইনগুলো ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। ফলে গণপরিবহনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাধারণত রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকলেও মঙ্গলবার এটি বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী সমাগম হওয়া লুভর মিউজিয়াম ঘোষণা করেছে, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তারা প্রতিদিন বিকেল ৬টার পরিবর্তে বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ঐতিহাসিক ভবনটি বেশ পুরোনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই তীব্র গরম মোকাবিলার উপযোগী নয়। দিনের শেষভাগে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে ভবনের ভেতরের গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের জ্বালানি খাতেও। পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সোমবার রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গোলফেচ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, গারোন নদীর যে পানি চুল্লি ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হয়, তার তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে না। কিন্তু মঙ্গলবার নদীর পানির তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়।

অন্যদিকে স্পেনে তাপপ্রবাহের তৃতীয় দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণের আন্দালুসিয়া এবং উত্তরের কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক কান্ট্রিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ‘এইমেট’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার কর্ডোভা শহরের গ্রামীণ এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং উত্তর-পূর্বের এব্রো উপত্যকায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্পেনের আবহাওয়াবিদ রুবেন দেল ক্যাম্পো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্পেনে ১০ বার জুনে এমন দাবদাহ দেখা গেছে, অথচ এর আগের ২৫ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র দুইবার।

ইতালির রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, তুরিন ও ভেনিসসহ ১৫টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সতর্কতার অর্থ হলো, এই আবহাওয়া শুধু বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য নয়, বরং সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতালি সরকার রোদে কাজ করা কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকদের সুরক্ষায় জরুরি শ্রম আইন পুনরায় চালু করেছে। এখন থেকে অতিরিক্ত গরমের সময়ে কাজ বন্ধ বা কমাতে বাধ্য হলে কোম্পানিগুলো রাষ্ট্র সমর্থিত বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবে।

স্পেনে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহ উত্তর দিকে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বেলজিয়াম সরকার তাদের জরুরি ‘ওজোন ও তাপ পরিকল্পনা’ সক্রিয় করেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে তীব্র আবহাওয়ার আশঙ্কায় ‘কোড অরেঞ্জ’ সতর্কতা জারি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন তীব্র দাবদাহ, পানিশূন্যতা এবং ভয়াবহ দাবানলের মতো ঘটনা আরও নিয়মিত হয়ে উঠছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইতিহাসের শক্তিশালী এল নিনোতে পুড়ছে ইউরোপ: শুধু ফ্রান্সেই নদী-খালে নেমে মারা গেলেন ৪০ জন মানুষ, গাড়ির ভেতর দমবন্ধ হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

Update Time : 07:25:29 am, Wednesday, 24 June 2026

ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট গরমে অতিষ্ঠ হয়ে নদী ও খালে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুধু ফ্রান্সেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন ও ইতালিতেও পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ নদী, হ্রদ ও খালে নামছেন। ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী মারিনা ফেরারি ফরাসি রেডিওকে বলেন, ‘তীব্র তাপদাহের সময় লাইফগার্ড বা নজরদারি নেই এমন জায়গায় সাঁতার কাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।’

ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘মেতেও ফ্রান্স’ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে ইতিহাসের উষ্ণতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার রাতে দেশের ইতিহাসে উষ্ণতম রাত রেকর্ড করা হয়, যেখানে গড় ন্যূনতম তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে ফ্রান্সের অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।

তীব্র দাবদাহের মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফ্রান্সজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা না করেই নদী ও খালে ঝাঁপ দিচ্ছেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় ফন্টেইন-লা পোর্ট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে সিন নদীতে গোসল করতে গিয়ে ১৩ বছরের এক কিশোরী তলিয়ে যায়। মেয়েটি সাঁতার জানত না। লিয়নের কাছে রোন নদীতে ডুবে যাওয়ার পর এক তরুণ পেশাদার ফুটবলারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ, সেখানে বিপদে পড়া চার তরুণকে উদ্ধারে কাজ করছে জরুরি বিভাগ।

এ ছাড়া গত সোমবার ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় কার্পেনত্রাস শহরের একটি পার্কিং লটে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তীব্র গরমে গাড়ির ভেতর দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি জার্মানিতেও দেখা যাচ্ছে। সেখানে তীব্র গরমে নদীতে নেমে কয়েকজন নিখোঁজ ও প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মান লাইফসেভিং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষেরা সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। রাইন নদীতে নিখোঁজ হওয়া তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে তীব্র গরমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত না করার এবং বাড়ি থেকে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রেললাইনগুলো ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। ফলে গণপরিবহনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাধারণত রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকলেও মঙ্গলবার এটি বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী সমাগম হওয়া লুভর মিউজিয়াম ঘোষণা করেছে, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তারা প্রতিদিন বিকেল ৬টার পরিবর্তে বিকেল ৪টার মধ্যেই বন্ধ হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ঐতিহাসিক ভবনটি বেশ পুরোনো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই তীব্র গরম মোকাবিলার উপযোগী নয়। দিনের শেষভাগে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে ভবনের ভেতরের গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের জ্বালানি খাতেও। পানির তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সোমবার রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গোলফেচ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, গারোন নদীর যে পানি চুল্লি ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হয়, তার তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে না। কিন্তু মঙ্গলবার নদীর পানির তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়।

অন্যদিকে স্পেনে তাপপ্রবাহের তৃতীয় দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণের আন্দালুসিয়া এবং উত্তরের কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক কান্ট্রিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ‘এইমেট’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার কর্ডোভা শহরের গ্রামীণ এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং উত্তর-পূর্বের এব্রো উপত্যকায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্পেনের আবহাওয়াবিদ রুবেন দেল ক্যাম্পো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্পেনে ১০ বার জুনে এমন দাবদাহ দেখা গেছে, অথচ এর আগের ২৫ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র দুইবার।

ইতালির রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, তুরিন ও ভেনিসসহ ১৫টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সতর্কতার অর্থ হলো, এই আবহাওয়া শুধু বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য নয়, বরং সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতালি সরকার রোদে কাজ করা কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকদের সুরক্ষায় জরুরি শ্রম আইন পুনরায় চালু করেছে। এখন থেকে অতিরিক্ত গরমের সময়ে কাজ বন্ধ বা কমাতে বাধ্য হলে কোম্পানিগুলো রাষ্ট্র সমর্থিত বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবে।

স্পেনে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহ উত্তর দিকে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বেলজিয়াম সরকার তাদের জরুরি ‘ওজোন ও তাপ পরিকল্পনা’ সক্রিয় করেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে তীব্র আবহাওয়ার আশঙ্কায় ‘কোড অরেঞ্জ’ সতর্কতা জারি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। এটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে ঘন ঘন তীব্র দাবদাহ, পানিশূন্যতা এবং ভয়াবহ দাবানলের মতো ঘটনা আরও নিয়মিত হয়ে উঠছে।