Dhaka 1:07 pm, Thursday, 16 July 2026

ইংল্যান্ডকে হারানো মহাকাব্যিক জয় যাকে উৎসর্গ করলেন মেসি

খেলা ডেস্ক
  • Update Time : 04:51:47 am, Thursday, 16 July 2026
  • / 23 Time View

ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে স্মরণ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও একটি বিশেষ উপহার।

মেসির মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় সব সময়ই আর্জেন্টিনার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কারণে এই ম্যাচের আবেগ আরও গভীর।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিসিওনি মেসিকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। সেটি হাতে নিয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে দিয়েগো ওপর থেকে আজকের জয় অনেক উপভোগ করছেন। কারণ, আজকের দিনটি তার জন্যও খুব বিশেষ ছিল। আমরা তাকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরেছি। তিনি ওপর থেকে যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবেই এটি উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা।

প্রথমে তিনি গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগেই বল স্পর্শ করে হাত দিয়ে গোল করেন। পরে সেটিই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসে স্থান পায়। এরপর মাঝমাঠ থেকে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে আরেকটি গোল করেন। অনেকের মতে, সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোল।

ম্যালভিনাস (ফকল্যান্ড) যুদ্ধের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি এখনো আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে বিশেষ আবেগের। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে সেই যুদ্ধের স্মৃতি আগের মতো ব্যক্তিগত না হলেও, ম্যাচটির গুরুত্ব তারা গভীরভাবে অনুভব করেছেন। সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার নিয়েও উদযাপন করেন।

মেসি জানান, জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই দলটি ভিন্ন ধরনের আবেগ অনুভব করছিল।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। আমরা ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাদের সমর্থকেরাও অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিলেন। সেই আবেগ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা জানতাম এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু অনেক সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় মেসির ক্যারিয়ারেও নতুন একটি মাইলফলক যোগ করেছে। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

এ ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যও থাকবে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় স্লোগান রয়েছে—‘ম্যালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ বিশ্বকাপের জন্য।’

আটলান্টার এই মহাকাব্যিক জয়ের পর সেই স্লোগানের প্রথম দুটি অংশ যেন নতুন করে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা রোববারের ফাইনালের। স্পেনকে হারাতে পারলে মেসির হাতে উঠবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি এবং আর্জেন্টিনা ধরে রাখবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইংল্যান্ডকে হারানো মহাকাব্যিক জয় যাকে উৎসর্গ করলেন মেসি

Update Time : 04:51:47 am, Thursday, 16 July 2026

ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে স্মরণ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও একটি বিশেষ উপহার।

মেসির মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় সব সময়ই আর্জেন্টিনার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কারণে এই ম্যাচের আবেগ আরও গভীর।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিসিওনি মেসিকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। সেটি হাতে নিয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে দিয়েগো ওপর থেকে আজকের জয় অনেক উপভোগ করছেন। কারণ, আজকের দিনটি তার জন্যও খুব বিশেষ ছিল। আমরা তাকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরেছি। তিনি ওপর থেকে যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবেই এটি উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা।

প্রথমে তিনি গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগেই বল স্পর্শ করে হাত দিয়ে গোল করেন। পরে সেটিই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসে স্থান পায়। এরপর মাঝমাঠ থেকে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে আরেকটি গোল করেন। অনেকের মতে, সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোল।

ম্যালভিনাস (ফকল্যান্ড) যুদ্ধের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি এখনো আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে বিশেষ আবেগের। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে সেই যুদ্ধের স্মৃতি আগের মতো ব্যক্তিগত না হলেও, ম্যাচটির গুরুত্ব তারা গভীরভাবে অনুভব করেছেন। সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার নিয়েও উদযাপন করেন।

মেসি জানান, জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই দলটি ভিন্ন ধরনের আবেগ অনুভব করছিল।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। আমরা ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাদের সমর্থকেরাও অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিলেন। সেই আবেগ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা জানতাম এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু অনেক সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় মেসির ক্যারিয়ারেও নতুন একটি মাইলফলক যোগ করেছে। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।

এ ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যও থাকবে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় স্লোগান রয়েছে—‘ম্যালভিনাসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ বিশ্বকাপের জন্য।’

আটলান্টার এই মহাকাব্যিক জয়ের পর সেই স্লোগানের প্রথম দুটি অংশ যেন নতুন করে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা রোববারের ফাইনালের। স্পেনকে হারাতে পারলে মেসির হাতে উঠবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি এবং আর্জেন্টিনা ধরে রাখবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট।