গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির মধ্যেই এই খাতে সরকারের ব্যয় আরও বড় আকারে বাড়তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতা, উৎসব বোনাস ও বৈশাখী ভাতাসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয় তাদের। ফলে প্রতি বছর বাজেটে এই খাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।
২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারি বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে বর্তমানে ৮৪ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। আগামী অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো চালু হলে এই ব্যয় এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এজন্য আগামী বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো একদিকে প্রয়োজনীয় হলেও অন্যদিকে এটি সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। কারণ একবার বেতন বাড়লে তা স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও একই হারে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হয়।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার এখন এক ধরনের দ্বৈত চাপে রয়েছে। একদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে বাড়তি ব্যয় সামাল দিয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা; দুই দিকই সামলাতে হচ্ছে। নতুন এই বেতনকাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.