পারিবারিক কলহের জেরে খুলনায় আরফানা হোসেন নির্জনা নামের ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর বস্তাবন্দী করে ফেলে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া মায়ের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর।
গত বুধবার বিকেলে এসব নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা তাকে চড় মারেন। এ সময় ঘরের ভেতর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাবা-মা মিলে ওই কিশোরীর মরদেহ একটি ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন। এরপর মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি সাততলা ভবনের সামনে ফেলে রেখে আসেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয় শনাক্ত এবং ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে প্রধান অভিযুক্ত বাবা আকাশ এখনো পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে নিহতের মা জানিয়েছিলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় নির্জনা একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল এবং গত এপ্রিলেও অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে কিছুদিন পর ফিরে আসে।
এসব বিষয় ঘিরেই পরিবারে চরম অশান্তি বিরাজ করছিল, যার মর্মান্তিক পরিণতিতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.