ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা। তবে মোদির দেশত্যাগ বা পদত্যাগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সমর্থকেরা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যন্তর মন্তর ঘিরে নতুন উত্তেজনা
দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি ও নির্দিষ্ট তারিখ জানতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সোমবার দলটির নেতারা পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না পেলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এদিকে কর্তৃপক্ষ যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন কয়েকটি স্থানের কথা জানিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নেতারা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভারতে বিতর্ক চলছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে মৃত, অন্যত্র স্থানান্তরিত এবং খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ভোটার রয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু ও বিজেপিবিরোধী ভোটাররা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন।
মোদি সরকারের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
দিল্লিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের আটক ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ভোটার তালিকা বিতর্ক ও চলমান বিক্ষোভের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয় এবং সরকার কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে মোদি সরকারের পতন বা প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার মতো প্রমাণ নেই।
যন্তর মন্তরকে ঘিরে প্রতিবাদের অধিকার, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক এখন ভারতের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে আন্দোলন, আদালতের পদক্ষেপ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.