পশু কোরবানি সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করবে না কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, গত ১৩ মে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশাবলিরই বাস্তবায়ন মাত্র।
বেঞ্চ জানায়, ‘২০১৮ সালের ডব্লিউপি ৩২৮ মামলার ক্ষেত্রে সমমর্যাদাসম্পন্ন একটি বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছিল, তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এমতাবস্থায়, ১৩ মে'র ওই জনবিজ্ঞপ্তিটি স্থগিত বা বাতিল করার কোনও ভিত্তি আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সুতরাং, ওই বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গটি যতদূর জড়িত, ততদূর পর্যন্ত এই আবেদনগুলি খারিজ করা হল।’
আদালত তার পর্যবেক্ষণে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহার কোনো অপরিহার্য অংশ নয় এবং ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়। আদালতের উল্লিখিত এই শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন ও তা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন আবেদনকারীর পক্ষ থেকে কোরবানির ক্ষেত্রে যে ছাড় বা অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও আদালত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর ১২ ধারার অধীনে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রাজ্য সরকারের রয়েছে।
যেহেতু চলতি মাসের ২৭ বা ২৮ তারিখে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে পারে, তাই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.