ইরান আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। সোমবার (৮ জুন) নতুন এ হামলার পর মোবাইল ফোন ও সাইরেনের সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এর আগে রোববার রাতেও উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল তেহরান। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, আগের হামলায় ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের টাইর ও নাবাতিয়েহ এলাকায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিতে এ হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেছেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন তেহরান আর মেনে নেবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের হামলা ছিল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা এবং নতুন কোনো উসকানি এলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেও বড় ধরনের আক্রমণ হতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন আহত হন। এর পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে নতুন করে কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর এবং সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নিচ্ছেন।
এ ছাড়া ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আশা করি, ইসরায়েলও পাল্টা হামলা করবে না। ইসরায়েল ও ইরান উভয়েই তাদের বার্তা দিয়েছে, এখন আর নতুন সংঘাতের প্রয়োজন নেই।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং তিনি চান না সাময়িক উত্তেজনার কারণে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হোক। তবে হোয়াইট হাউসের এ আহ্বানের বিপরীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিকল্পনা করছেন।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.