প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ জুন আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। তাঁর ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার দাবি করেন, ভয় ও আতঙ্কের এই পরিবেশই তাঁর বাবার হত্যার কারণ। দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়া জুলফিকার বর্তমানে বাবার মতোই পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকায় ফেরিওয়ালার কাজ করেন।
জুলফিকার জানান, ৯ জুন সকালে আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করছিলেন। সুপুরডিহি গ্রামে তাঁকে টেনে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি প্রথমে তাঁর বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। জুলফিকার বলেন, 'দুপুর নাগাদ বান্দোয়ান থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার বাবা খুন হয়েছেন। এখনই বান্দোয়ান হাসপাতালে চলে আসুন।'
তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পান। 'তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। সেই দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই আকবর মণ্ডল মারা গেছেন।'
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, 'শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক আমাদের জোর করে "জয় শ্রীরাম" বলতে বাধ্য করত। তারা বলত, এখানে আর আমাদের ফেরি করতে দেওয়া হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি এবং কাজ করি।' তিনি তাঁর বাবার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুনিশোল গ্রামের মণ্ডলপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডল বলেন, 'আমাদের গ্রামের মানুষ প্রায় ১৪ বছর ধরে সেখানে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ফেরি করেছে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের ওপর হামলা বেড়েছে। পুনিশোলের অধিকাংশ মানুষ গরিব ও শ্রমজীবী। আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজে বের হই।'
এ বিষয়ে ১০ জুন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তিনি বলেন, 'খুনটি কেন হয়েছে তা নিয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ঝগড়া থেকে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।' বৈভব তিওয়ারি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
