নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও শহরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর আরও দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫ নম্বর ঘাট-একরামপুর সংযোগ সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বহুল প্রতীক্ষিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকেও সরকার অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বন্দর ও শহরের লাখো মানুষকে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক খেয়াঘাটনির্ভর যাতায়াত করতে হয়েছে।
এমপি আবুল কালাম বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে বর্তমানে পাঁচটি খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব ঘাটে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে সরকার প্রায় সাড়ে ৩শ মিটার প্রশস্ত নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও কারিগরি বিষয় পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে চীনের একটি প্রতিনিধি দল স্থান পরিদর্শন করেছে। বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ৫ নম্বর ঘাট-একরামপুর এলাকায় কদম রসুল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নকশা সংক্রান্ত বিভিন্ন আপত্তির কারণে প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। বর্তমানে সেই প্রকল্পের কাজও পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে বন্দর ও শহরের মানুষের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ সেতু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১ জুন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান China Road and Bridge Corporation (সিআরবিসি)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত সেতু এলাকা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলটি শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতুর সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখে এবং প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
স্থানীয়দের মতে, হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ও ৫ নম্বর ঘাট-একরামপুর—এই দুটি সেতু নির্মিত হলে বন্দর ও শহরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হবে। পাশাপাশি সময়, খরচ ও যাতায়াতের ঝুঁকি কমে আসবে এবং নদীর দুই পাড়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.