ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভায় নবনিযুক্ত হিসাবরক্ষক সৈয়দ আশরাফুলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আখাউড়া উপজেলার রানীহার গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আশরাফুল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে আখাউড়া পৌরসভায় হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, চাকরিকালীন সময়ে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে আখাউড়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে লাক্সাম
জেলায় বদলি করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার আখাউড়া পৌরসভায় ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর অস্বাভাবিক হারে সম্পদের মালিক হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল। স্থানীয়দের দাবি, তার নিজ গ্রামে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বিঘা জমিসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
এদিকে, গত ৭-৮ জুলাই সাবেক হিসাবরক্ষক বশির চৌধুরীর বদলির পর সৈয়দ আশরাফুল কসবা পৌরসভায় হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার পদায়ন নিয়ে কসবা পৌরবাসীর একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের প্রশ্ন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাকে কী প্রক্রিয়ায় কসবা পৌরসভায় পদায়ন করা হলো এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা কী।
তবে সৈয়দ আশরাফুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.