আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১৬-এর ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য হারের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিশর শিবির। ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটানোর দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। এই হারের পর ম্যাচটিকে সরাসরি 'পাতানো' বলে দাবি করেছেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।
ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তোষ ছিল মিশরীয় শিবিরে। জিকোর করা একটি দারুণ গোল ভিএআরের সাহায্যে বিল্ড-আপে ফাউলের অজুহাতে বাতিল করা হয়। যদিও সেই ধাক্কা সামলে জিকো পরে আরেকটি গোল করে দলকে আবারও দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বিতর্ক আরও উসকে যায় যখন এনজোর জয়সূচক গোলের ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে অস্বীকৃতি জানান। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জিকো ফরাসি রেফারিকে ‘জালিম’ (অবিচারকারী) বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ পাঠ করেন। যার অর্থ, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।’
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জিকো বলেন, রেফারি শুরু থেকেই তাদের বিপক্ষে ছিলেন এবং ম্যাচটি আগে থেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে ঠিক করা ছিল। আর্জেন্টিনাকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিপক্ষ দল নিজেদের যোগ্যতায় জিতলে তাদের কোনো আফসোস থাকত না।
তবে কেবল বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই মিশরের। ম্যাচের একেবারে শেষ ভাগে এসে ২-০ গোলের বিশাল লিড ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা সম্পূর্ণ তাদেরই। অন্যদিকে, চাপের মুখে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন। তাঁর জাদুকরী অনুপ্রেরণাতেই টানা তিন গোল করে রূপকথার মতো এক প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে আলবিসেলেস্তেরা, আর মাঠ ছাড়তে হয় হৃদয়ভঙ্গ মিশরকে।
Publisher: Mustakim Nibir
Copyright © 2026 The Times OF Dhaka. All rights reserved.