এবার ইন্দোনেশিয়াতেও জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ পরিণত হতে পারে সরকারবিরোধী আন্দোলনে, রাজপথে হাজারো শিক্ষার্থী
- Update Time : 08:39:19 am, Sunday, 14 June 2026
- / 35 Time View

জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় নীতি এবং বেসামরিক প্রশাসনে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিবাদে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানী জাকার্তাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবার (১৩ জুন) আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রীয় অপচয়মূলক ব্যয় হ্রাস এবং বেসামরিক প্রশাসনে সেনাবাহিনীর বাড়তে থাকা প্রভাব বন্ধের দাবি তোলেন। এই কর্মসূচির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (২৬৮ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ)।
বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। জাকার্তার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল পৌঁছানোর চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৬,০০০ পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। অর্থনৈতিক চাপের প্রভাবে দেশটির মুদ্রা রুপিয়াহও দুর্বল হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর মান কমে প্রায় ১৮,০০০-এ নেমেছে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়।
আন্দোলনকারীরা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে।’ তারা বিপ্লবের স্লোগানও দেন। রাজধানীর পাশাপাশি বান্দুং ও পন্তিয়ানাকসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ ইন্দোনেশিয়ায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় নীতি এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের কারণে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।





















