জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
- Update Time : 03:02:36 am, Wednesday, 3 June 2026
- / 54 Time View

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ভোটে তিনি হারিয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূতকে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে এই ভোটগ্রহণ হয়।
নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস ১৯৩ দেশের প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দুই প্রার্থীকে ভোট দেন। এই দুই প্রার্থীর বাইরে নতুন কাউকেও কাগজে লিখে ভোট দেওয়ার সুযোগ সেখানে ছিল।
নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং সাইপ্রাসের কাকোরিস ৯১ ভোট পেয়েছেন। খলিলুর রহমানের এ বিজয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্যদের ‘আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ সাফল্য দেশের জন্য শুধু মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি বহুপক্ষীয় কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।”
এই জয়ের পেছনে ‘তিনটি বিষয় মূল ভূমিকা পালন করেছে’ দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক অর্জনের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমিত সময়ে দেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা।”
নির্বাচিত হয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি।
৪০ বছর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশি রাজনীতিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
আঞ্চলিকভাবে ঘুর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পরবর্তী সেশনের সভাপতি পেয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
একইপদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনর্জ্জীবিত হয়।
এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদের পাশাপাশি বেশির ভাগ সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন তিনি।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
এরপর নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া চমক তৈরি করে।
নিজের কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনের পর সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহযোগীর পদেও ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে জেনিভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান।
পরের ২৫ বছর নিউ ইয়র্ক ও জেনিভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।















