Dhaka 1:43 pm, Tuesday, 30 June 2026

ঢাবির সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নাম থাকা ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় ভিপি সাদিক কায়েম সহ ডাকসু সদস্যদের ওয়াকআউট

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : 06:17:31 am, Tuesday, 30 June 2026
  • / 46 Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা থেকে ‘ওয়াকআউট’ (বর্জন) করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচ সদস্য। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

সিনেট সভার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনা—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেট সদস্যদের মতামত আহ্বান করেন।

এ সময় সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানতে চান, এ সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়েছে কি না। জবাবে সিনেটের চেয়ারম্যান জানান, এটি এখনো সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়নি। এরপর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত সিনেটে আনার আগে তা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হওয়া উচিত।

তবে সেই প্রক্রিয়া ছাড়াই এদিন সিনেট অধিবেশনেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ।

এস এম ফরহাদ বলেন, ফ্যাসিবাদের আইকনগুলো এখনো থাকায় সংশ্লিষ্ট হলগুলোর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘স্মৃতিসৌধে শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে গেলে সেখানে পুলিশের সদস্যরা তাঁদের দৌড়ানি দেয় শুধু এ নাম দেখে। এরপর এই নাম দেখে ডিবেট ক্লাবে অনেকে ফান্ড না দেওয়ায় কার্যক্রম চালানো যায়নি। এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা ভিক্টিমাইজড (ভুক্তভোগী) হচ্ছেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালে ডাকসু থেকে মনোনীত পাঁচ সদস্য সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। তারা হলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঢাবির সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নাম থাকা ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন না করায় ভিপি সাদিক কায়েম সহ ডাকসু সদস্যদের ওয়াকআউট

Update Time : 06:17:31 am, Tuesday, 30 June 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা থেকে ‘ওয়াকআউট’ (বর্জন) করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পাঁচ সদস্য। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

সিনেট সভার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনা—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেট সদস্যদের মতামত আহ্বান করেন।

এ সময় সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানতে চান, এ সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়েছে কি না। জবাবে সিনেটের চেয়ারম্যান জানান, এটি এখনো সিন্ডিকেটে গৃহীত হয়নি। এরপর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত সিনেটে আনার আগে তা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হওয়া উচিত।

তবে সেই প্রক্রিয়া ছাড়াই এদিন সিনেট অধিবেশনেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ।

এস এম ফরহাদ বলেন, ফ্যাসিবাদের আইকনগুলো এখনো থাকায় সংশ্লিষ্ট হলগুলোর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘স্মৃতিসৌধে শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে গেলে সেখানে পুলিশের সদস্যরা তাঁদের দৌড়ানি দেয় শুধু এ নাম দেখে। এরপর এই নাম দেখে ডিবেট ক্লাবে অনেকে ফান্ড না দেওয়ায় কার্যক্রম চালানো যায়নি। এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা ভিক্টিমাইজড (ভুক্তভোগী) হচ্ছেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালে ডাকসু থেকে মনোনীত পাঁচ সদস্য সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। তারা হলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।