যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশের দাবি
- Update Time : 06:09:10 am, Tuesday, 16 June 2026
- / 50 Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার এ ঘোষণা দেওয়ার পরই বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের আহ্বান জানান।
জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আংশিক কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে কবে আনা হবে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরপরই এটি প্রকাশ করা হতে পারে এবং খুব শিগগিরই সবাই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারবে।
এদিকে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার প্রশাসনের কাছে চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন জনগণের জানা উচিত এই সমঝোতার শর্তগুলো কী এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার ভঙ্গুর পরিস্থিতির ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ থেকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুত, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জানিয়েছেন যে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো বাধ্যবাধকতা এই সমঝোতায় নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থা, একতরফা কোনো চুক্তি নয়।
তিনি আরও বলেন, যদি ইরান হিজবুল্লাহর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং সংগঠনটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।























