তীব্র চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, সাত বছরে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান পাচ্ছে ব্রিটেন
- Update Time : 12:03:47 pm, Monday, 22 June 2026
- / 179 Time View

নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর এই ঘোষণার ফলে গত সাত বছরে ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। স্টারমার বলেন, “আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কি না, এখন সেই প্রশ্নই তুলছে আমার দল।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদীয় দলের সেই প্রশ্নের জবাব আমি পেয়েছি এবং সসম্মানে তা মেনেও নিচ্ছি। ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্যই ছিল নিজের ভালোবাসার দেশকে সবার আগে রাখা। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। আজ সকালেই মহামান্য রাজাকে আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।”
বক্তব্যের শেষ দিকে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। সব পরিস্থিতিতে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী লেডি ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
স্টারমার বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পর এবার আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেব। আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিকের জন্য সেরা স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে আমার গর্ব ও আনন্দের উৎস—সন্তানদের জন্য আরও ভালো বাবা হয়ে উঠতে চাই।”
এই ঘোষণার পর লেবার পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের নতুন নেতা নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ ভোট হবে নাকি সরাসরি কাউকে দলনেতা ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
বিদায়ী ভাষণে স্টারমার জানান, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য তিনি দলকে অনুরোধ করবেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হতে পারে। এর কয়েক সপ্তাহ পর গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত হবে।
তিনি বলেন, “ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হলে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন পুনরায় চালু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন পর্ব সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।” পাশাপাশি নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের নজর অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। সম্প্রতি মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বড় জয়ের পর তাঁকে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম দাবিদার এবং দলের “স্বাভাবিক উত্তরসূরি” হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাও নেতৃত্বের দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে ব্রিটিশ সরকারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জনমত জরিপে লেবার পার্টি পিছিয়ে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শেষ পর্যন্ত বার্নহ্যামের পক্ষে দলের কতটা সমর্থন একত্রিত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে ক্ষমতার হস্তান্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হবে নাকি সরাসরি তাঁকেই দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।


















