৮ ঘণ্টা বিলম্বের পর যাত্রীদের ধোঁকা দিয়ে এসি ছাড়াই চলল ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, দম বন্ধ করা যাত্রার বর্ণনা দিলেন যাত্রী
- Update Time : 05:29:39 am, Monday, 13 July 2026
- / 24 Time View

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা-চেন্নাইগামী একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে যায়। ফ্লাইট বিলম্বের কারণ হিসেবে যাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সামিয়া শতাব্দী নামে এক যাত্রী এসব অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে বৈরী আবহাওয়ার কথা জানানো হলেও পরে একই সময়ে অন্যান্য ফ্লাইট ছেড়ে যায়। এরপর যাত্রীদের জানানো হয়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বিমানটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সিলেটে অবতরণ করেছে। পরে আবার জ্বালানি সংকটের কথাও বলা হয়।
সামিয়া শতাব্দী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের মধ্যে সবাইকে বিমানে উঠানো হলেও বিমানটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চেন্নাই পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সময় বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও ফ্যান বন্ধ ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজন। তাদের মধ্যে ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত বয়স্ক ও শিশুরাও ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এসি ও ফ্যান বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন। অনেক শিশু কাঁদছিল, বয়স্ক যাত্রীরা অসুস্থ বোধ করেন এবং কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। একজন যাত্রী দাবি করেন, তার অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও তা এক ঘণ্টা পর সরবরাহ করা হয়। অতিরিক্ত গরমে অনেক যাত্রী ঘামে ভিজে যান এবং হিজাব-নিকাব পরিহিত নারীরাও বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।
যাত্রীর অভিযোগ, পুরো সময় ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, ‘এসি ৫ মিনিট পরে চালু হবে।’ তবে চেন্নাই পৌঁছানো পর্যন্ত এসি চালু হয়নি। সংশ্লিষ্ট যাত্রী দাবি করেন, কেবিন ক্রুদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, উড্ডয়নের আগেই এসি বিকল থাকার বিষয়টি জানা ছিল। তার অভিযোগ, এসি সচল করার চেষ্টা করতে যাত্রীদের প্রায় দেড় ঘণ্টা এসি ও ফ্যানবিহীন বিমানে বসিয়ে রাখা হয়। পরে সমস্যার সমাধান সম্ভব না হওয়ায় চেন্নাই থেকে ফিরে এসি মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে যাত্রীদের কিছু জানানো হয়নি এবং বারবার এসি চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই যাত্রী কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। তার প্রশ্ন, এসি ছাড়া জানালা-দরজাবদ্ধ বিমানে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে ভ্রমণ করবেন। পুরো ভাড়া পরিশোধের পরও কেন মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হলো। বিকল্প বিমান বা ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়নি। অসুস্থ যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি কেন বিবেচনায় আনা হয়নি এবং কেন এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জবাবদিহি করা হয়নি।





















