অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিলেই হবে না। দীর্ঘদিনের মন্দা, উচ্চ সুদের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নগদ অর্থের সংকটে কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না করলে খেলাপি ঋণ আদায়ও সম্ভব হবে না।
*আগ্রহ দেখাচ্ছে না বেসরকারি ব্যাংক *বন্ধ শিল্প সচল করতে দরকার নতুন ঋণ
বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা
- Update Time : 04:13:33 am, Sunday, 12 July 2026
- / 31 Time View

শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থায়নের অভাবে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য খাতের হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এ তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কার্যকর মূলধনের সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে নতুন অর্থায়ন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে টাকা থাকলে তারা কারখানাই চালু করত। তাই শুধু এককালীন সুদ মওকুফ করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে নতুন ঋণ দিতে হবে। এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেলে অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং ব্যাংকের খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এককালীন এক্সিট সুবিধার আবেদন এলে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই গ্রাহককে এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আটকে থাকা ঋণের অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় ও প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে নীতিমালাটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও শুধু ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে কাক্সিক্ষত ফল মিলবে না। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক ঋণ আদায় তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।






















