Dhaka 4:32 am, Saturday, 22 August 2026

চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

স্টাফ রিপোর্টার:
  • Update Time : 05:30:22 pm, Friday, 31 July 2026
  • / 103 Time View

বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি, নগদে চাঁদা আদায়—ডেভিড ইমনের চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের নানা তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। পরে বাহকের মাধ্যমে নগদ টাকা সংগ্রহ করে হুন্ডি ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ ইমনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, চাঁদা দাবি করার আগে ভুক্তভোগীদের ব্যবসা, সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবন এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করত চক্রটি। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে সেই তথ্য উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা দাবি করা হতো। টাকা না দিলে হামলা, ভাঙচুর কিংবা গুলির হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি দল তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করত এবং অন্য একটি দল হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়িত্ব পালন করত। নগদে সংগ্রহ করা অর্থ চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো। পরে তিনি হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ ডেভিড ইমনের কাছে পাঠাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চাঁদা না দিলে তাঁদের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় নগদে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে প্রতিশোধের ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন চাঁদাবাজির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ এখন ইউসুফসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চক্রটির অর্থ লেনদেন, অস্ত্রের উৎস এবং সহযোগীদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হিসেবে পরিচিত।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

Update Time : 05:30:22 pm, Friday, 31 July 2026

বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি, নগদে চাঁদা আদায়—ডেভিড ইমনের চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের নানা তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। পরে বাহকের মাধ্যমে নগদ টাকা সংগ্রহ করে হুন্ডি ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ ইমনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, চাঁদা দাবি করার আগে ভুক্তভোগীদের ব্যবসা, সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবন এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করত চক্রটি। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে সেই তথ্য উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা দাবি করা হতো। টাকা না দিলে হামলা, ভাঙচুর কিংবা গুলির হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি দল তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করত এবং অন্য একটি দল হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়িত্ব পালন করত। নগদে সংগ্রহ করা অর্থ চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো। পরে তিনি হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ ডেভিড ইমনের কাছে পাঠাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চাঁদা না দিলে তাঁদের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় নগদে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে প্রতিশোধের ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন চাঁদাবাজির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশ এখন ইউসুফসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চক্রটির অর্থ লেনদেন, অস্ত্রের উৎস এবং সহযোগীদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হিসেবে পরিচিত।