Dhaka 2:12 pm, Wednesday, 4 November 2026
৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পে আগেই সম্পন্ন কাজ নতুন করে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ; ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা উত্তোলন ঘিরে ভুয়া প্রাক্কলন, জাল চুক্তি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তোলপাড় সুনামগঞ্জ সওজ।

সুনামগঞ্জ সওজে ৩৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ! ভুয়া ইস্টিমেট, জাল চুক্তি ও চেক জালিয়াতির নেপথ্যে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • Update Time : 07:06:35 am, Wednesday, 4 November 2026
  • / 16 Time View

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উত্তোলন, আগে থেকেই সম্পন্ন হওয়া সড়ক-সেতুর কাজ নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত এবং ভুয়া প্রাক্কলন তৈরির অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। যেখানে ভুয়া ইস্টিমেট, চুক্তি নিয়ে জটিলতা, চেক জালিয়াতি এবং ঠিকাদারি অর্থের ভাগ-বণ্টন নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় ৯টি সেতু ও অ্যাপ্রোচ কালভার্টের কাজ দেখিয়ে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। সমাপ্ত কাজকে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

৯টি সেতু ও অ্যাপ্রোচের নামে ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন

অভিযোগের সময়কালে সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রব্বে, সুনামগঞ্জ সওজের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আব্দুল আহাদ এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলাউদ্দিন সোহাগের দায়িত্ব পালনকালে এই প্রাক্কলন তৈরি হয় বলে অনুসন্ধানী তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

প্রকল্পের তালিকায় ছিল আনোয়ারপুর-ফতেপুর সড়কের চারটি অ্যাপ্রোচ, আলীপুর ব্রিজ, নিয়ামতপুর রাস্তার ব্রিজ, বিশ্বম্ভরপুর কলেজ রোডের অ্যাপ্রোচ, হরিপুর ব্রিজ এবং রঙ্গিয়ারচর ব্রিজ। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজের কয়েকটি আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

এ ছাড়া সালামপুর-লালপুরের তিনটি অ্যাপ্রোচ, জলিলপুরের দুটি কালভার্ট এবং কুপা ব্রিজের সংযোগ সড়কও প্রকল্পের প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবে কোন কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রকল্পের আওতায় নতুন করে কী পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে?

দরপত্র থেকে সাব-ঠিকাদারি: চুক্তি ঘিরে রহস্য

২০২৪ সালের ২৭ মার্চ প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোঃ বদরুল ইকবাল লিমিটেড’।

তবে কাজ পাওয়ার পরই ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বদরুল ইকবালের অনুপস্থিতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মোঃ আজাদ হোসেনকে সাব-ঠিকাদার নিয়োগের চুক্তি করা হয় বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বদরুল ইকবাল তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেন।

একই প্রকল্পে একজন সাব-ঠিকাদার এবং অন্যজন ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় চুক্তির বৈধতা, ক্ষমতার সীমা এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

১৬ কোটি টাকার বিলের পর অর্থ নিয়ে বিরোধ

প্রকল্পের বিল উত্তোলন ও অর্থের ভাগ-বণ্টনকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী ধাপে ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। অর্থের হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সাব-ঠিকাদার আজাদ হোসেনকে সিলেটে ডেকে নিয়ে মানসিক চাপে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় পুলিশ আজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

আজাদ হোসেনের দাবি, সাব-ঠিকাদার করার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে অর্থের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

উত্তোলন প্রায় ৩৮ কোটি টাকা, বাস্তবে কাজ কতটুকু?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলন আপাতত আটকে গেছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—উত্তোলিত প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিপরীতে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে? কোন কোন কাজের জন্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে? আগে থেকেই সম্পন্ন হওয়া কাজের বিপরীতে নতুন করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না? আর সরকারি অর্থের কোনো অংশ আত্মসাৎ হয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন প্রকল্পের মূল নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং সরেজমিন কাজের নিরপেক্ষ যাচাই।

 

সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা জরুরি।

 

দুদকের তদন্ত দাবি

সুনামগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উত্তোলন এবং ৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রাক্কলন ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

তাঁদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও কারিগরি নিরীক্ষা করা। একই সঙ্গে ভুয়া প্রাক্কলন, জাল চুক্তি, চেক জালিয়াতি কিংবা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

**প্রশ্ন এখন একটাই—৮৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে, নাকি উন্নয়নের আড়ালে সরকারি অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে?**

 

এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি নিরপেক্ষ তদন্তে, নাকি ফাইলবন্দি হয়েই থাকবে সুনামগঞ্জ সওজের প্রায় ৩৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ?

Please Share This Post in Your Social Media

৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পে আগেই সম্পন্ন কাজ নতুন করে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ; ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা উত্তোলন ঘিরে ভুয়া প্রাক্কলন, জাল চুক্তি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তোলপাড় সুনামগঞ্জ সওজ।

সুনামগঞ্জ সওজে ৩৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ! ভুয়া ইস্টিমেট, জাল চুক্তি ও চেক জালিয়াতির নেপথ্যে কারা?

Update Time : 07:06:35 am, Wednesday, 4 November 2026

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উত্তোলন, আগে থেকেই সম্পন্ন হওয়া সড়ক-সেতুর কাজ নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত এবং ভুয়া প্রাক্কলন তৈরির অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। যেখানে ভুয়া ইস্টিমেট, চুক্তি নিয়ে জটিলতা, চেক জালিয়াতি এবং ঠিকাদারি অর্থের ভাগ-বণ্টন নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় ৯টি সেতু ও অ্যাপ্রোচ কালভার্টের কাজ দেখিয়ে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। সমাপ্ত কাজকে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

৯টি সেতু ও অ্যাপ্রোচের নামে ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন

অভিযোগের সময়কালে সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রব্বে, সুনামগঞ্জ সওজের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আব্দুল আহাদ এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলাউদ্দিন সোহাগের দায়িত্ব পালনকালে এই প্রাক্কলন তৈরি হয় বলে অনুসন্ধানী তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

প্রকল্পের তালিকায় ছিল আনোয়ারপুর-ফতেপুর সড়কের চারটি অ্যাপ্রোচ, আলীপুর ব্রিজ, নিয়ামতপুর রাস্তার ব্রিজ, বিশ্বম্ভরপুর কলেজ রোডের অ্যাপ্রোচ, হরিপুর ব্রিজ এবং রঙ্গিয়ারচর ব্রিজ। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজের কয়েকটি আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

এ ছাড়া সালামপুর-লালপুরের তিনটি অ্যাপ্রোচ, জলিলপুরের দুটি কালভার্ট এবং কুপা ব্রিজের সংযোগ সড়কও প্রকল্পের প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবে কোন কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রকল্পের আওতায় নতুন করে কী পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে?

দরপত্র থেকে সাব-ঠিকাদারি: চুক্তি ঘিরে রহস্য

২০২৪ সালের ২৭ মার্চ প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোঃ বদরুল ইকবাল লিমিটেড’।

তবে কাজ পাওয়ার পরই ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বদরুল ইকবালের অনুপস্থিতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মোঃ আজাদ হোসেনকে সাব-ঠিকাদার নিয়োগের চুক্তি করা হয় বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বদরুল ইকবাল তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেন।

একই প্রকল্পে একজন সাব-ঠিকাদার এবং অন্যজন ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় চুক্তির বৈধতা, ক্ষমতার সীমা এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

১৬ কোটি টাকার বিলের পর অর্থ নিয়ে বিরোধ

প্রকল্পের বিল উত্তোলন ও অর্থের ভাগ-বণ্টনকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পরবর্তী ধাপে ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। অর্থের হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সাব-ঠিকাদার আজাদ হোসেনকে সিলেটে ডেকে নিয়ে মানসিক চাপে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় পুলিশ আজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

আজাদ হোসেনের দাবি, সাব-ঠিকাদার করার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে অর্থের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

উত্তোলন প্রায় ৩৮ কোটি টাকা, বাস্তবে কাজ কতটুকু?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ কোটি টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলন আপাতত আটকে গেছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—উত্তোলিত প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিপরীতে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে? কোন কোন কাজের জন্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে? আগে থেকেই সম্পন্ন হওয়া কাজের বিপরীতে নতুন করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না? আর সরকারি অর্থের কোনো অংশ আত্মসাৎ হয়েছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন প্রকল্পের মূল নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং সরেজমিন কাজের নিরপেক্ষ যাচাই।

 

সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা জরুরি।

 

দুদকের তদন্ত দাবি

সুনামগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উত্তোলন এবং ৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রাক্কলন ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

তাঁদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও কারিগরি নিরীক্ষা করা। একই সঙ্গে ভুয়া প্রাক্কলন, জাল চুক্তি, চেক জালিয়াতি কিংবা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

**প্রশ্ন এখন একটাই—৮৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে, নাকি উন্নয়নের আড়ালে সরকারি অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে?**

 

এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি নিরপেক্ষ তদন্তে, নাকি ফাইলবন্দি হয়েই থাকবে সুনামগঞ্জ সওজের প্রায় ৩৮ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ?