Dhaka 10:07 pm, Thursday, 14 May 2026

হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

নাঈম চৌধুরী
  • Update Time : 12:59:10 pm, Thursday, 14 May 2026
  • / 32 Time View

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।”

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।

বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে ভিকটিমকে ঢাকার জাতীয় হৃদয়রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করায়। ওয়ার্ড বয় শহিদ এসে ভিকটিমকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাদীকে বলে ‘আমরা পরীক্ষা করেছি আপনার বাবার হার্টে কোনও সমস্যা নেই, আপনার বাবার সমস্যা মাথায়। এই মুহুর্তে আপনার বাবাকে আইসিইউ’তে নিতে হবে। আমাদের এখানে আইসিইউ নাই এবং এই মুহূর্তে ঢাকার কোনও হাসপাতালে আইসিইউ খালি নেই। প্রাইভেট হৃদয় জেনালের হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে, সেখানে ভর্তি করান আমি বলে দিচ্ছি। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা করে আবারও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়া আসা হবে।

আরও বলা হয়, আসামিদের কথামতো বাবার চিকিৎসার জন্য বাদী রাজি হয়। আসামিরা চিকিৎসা বিলের চাইতে বেশি টাকা দাবি করলে, হাসপাতাল থেকে ভিকটিমকে নিয়ে যেতে চান বাদী। এসময় আসামিরা টাকা ছাড়া ভিকটিমকে ছাড়তে চায়নি। বাদী বারবার অনুরোধ করলে বাদীকে আটক করে মারধর করে এবং ভিকটিমের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে বাদী নিরুপায় হয়ে ধার-দেনা করে টাকা পরিশোধ করেন। বাদীর বাবাকে পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত ডাক্তার নার্সসহ ওয়ার্ডের সবাই বলেন রোগীর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। অতঃপর বিকালে ৩টা ২০ মিনিটে বাদীর বাবা ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিয়োগ করলে বাদীকে কিল, ঘুষি মেরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

Update Time : 12:59:10 pm, Thursday, 14 May 2026

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।”

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।

বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে ভিকটিমকে ঢাকার জাতীয় হৃদয়রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করায়। ওয়ার্ড বয় শহিদ এসে ভিকটিমকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাদীকে বলে ‘আমরা পরীক্ষা করেছি আপনার বাবার হার্টে কোনও সমস্যা নেই, আপনার বাবার সমস্যা মাথায়। এই মুহুর্তে আপনার বাবাকে আইসিইউ’তে নিতে হবে। আমাদের এখানে আইসিইউ নাই এবং এই মুহূর্তে ঢাকার কোনও হাসপাতালে আইসিইউ খালি নেই। প্রাইভেট হৃদয় জেনালের হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে, সেখানে ভর্তি করান আমি বলে দিচ্ছি। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা করে আবারও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়া আসা হবে।

আরও বলা হয়, আসামিদের কথামতো বাবার চিকিৎসার জন্য বাদী রাজি হয়। আসামিরা চিকিৎসা বিলের চাইতে বেশি টাকা দাবি করলে, হাসপাতাল থেকে ভিকটিমকে নিয়ে যেতে চান বাদী। এসময় আসামিরা টাকা ছাড়া ভিকটিমকে ছাড়তে চায়নি। বাদী বারবার অনুরোধ করলে বাদীকে আটক করে মারধর করে এবং ভিকটিমের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে বাদী নিরুপায় হয়ে ধার-দেনা করে টাকা পরিশোধ করেন। বাদীর বাবাকে পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হলে কর্তব্যরত ডাক্তার নার্সসহ ওয়ার্ডের সবাই বলেন রোগীর যথাযথ চিকিৎসা হয়নি। অতঃপর বিকালে ৩টা ২০ মিনিটে বাদীর বাবা ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিয়োগ করলে বাদীকে কিল, ঘুষি মেরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।