Dhaka 10:35 am, Tuesday, 25 August 2026

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়ম আরো কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র, পড়া শেষে দেশ ছাড়তে হবে ৩০ দিনের মধ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : 08:31:46 am, Friday, 17 July 2026
  • / 82 Time View

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন বিধি অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

নতুন বিধিতে একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নীতি কার্যকর হবে। তাদের ভাষ্য, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এ নীতির উদ্দেশ্য।

শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ নতুন এ বিধিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে সমালোচনা করেছে। এত দিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। তবে নতুন নিয়মে তাঁদের অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারও মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর পর্যায়ের অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ের কোর্সে অধ্যয়ন করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের উপস্থিতি বেশি। এসব কোর্স সম্পন্ন এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশে সাধারণত বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি গবেষণার তহবিলের ঘাটতি বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে অথবা অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তন করতে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল। তবে অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা), যারা বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি–সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে, তারাও নতুন নিয়মের সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, ‘নতুন এ নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।’

নতুন এই নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন—এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়ম আরো কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র, পড়া শেষে দেশ ছাড়তে হবে ৩০ দিনের মধ্যে

Update Time : 08:31:46 am, Friday, 17 July 2026

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন বিধি অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

নতুন বিধিতে একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নীতি কার্যকর হবে। তাদের ভাষ্য, ভিসার অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এ নীতির উদ্দেশ্য।

শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ নতুন এ বিধিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে সমালোচনা করেছে। এত দিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। তবে নতুন নিয়মে তাঁদের অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারও মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে সাধারণত চার বছর সময় লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর পর্যায়ের অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ের কোর্সে অধ্যয়ন করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের উপস্থিতি বেশি। এসব কোর্স সম্পন্ন এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশে সাধারণত বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি গবেষণার তহবিলের ঘাটতি বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে অথবা অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তন করতে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল। তবে অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা), যারা বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি–সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে, তারাও নতুন নিয়মের সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, ‘নতুন এ নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।’

নতুন এই নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন—এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।