তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে মাঠে নামছে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, ভবিষ্যদ্বাণী সুপার কম্পিউটারের
- Update Time : 03:24:01 am, Saturday, 18 July 2026
- / 12 Time View

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে দু’দলেরই। তাই ফাইনালে নয়, এবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়লেও জয় দিয়ে আসর শেষ করতে চায় দুই দলই।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে সাধারণত খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটিই দিদিয়ের দেশঁর শেষ ম্যাচ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ বছরে তিনি ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি ২০২২ সালের ফাইনাল এবং ২০২৬ সালের সেমিফাইনালে তুলেছেন। গ্রুপ পর্ব চলাকালে মাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে নিজের অধ্যায়ের ইতি টানতে চান তিনি।
এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে সমান ৮ গোল করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন মেসি, যেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি। এই ম্যাচে গোল করতে পারলে গোল্ডেন বুট জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২১ গোলের রেকর্ডেও মেসিকে স্পর্শ কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তার। সফল হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুইবার গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি গড়বেন এমবাপ্পে।
তবে ম্যাচটি নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও নয়, এই ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। আমরা বিশ্বকাপ জয়ের জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’
একই ধরনের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন দেশঁও। ফরাসি কোচ বলেন, ‘আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম, সেখানে নেই। এটি আমাদের প্রত্যাশা ছিল না। হতাশা অবশ্যই আছে, তবে মাঠে নেমে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
বিশ্বকাপে এবার দুই দলেরই পথচলা ছিল দারুণ। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে ফ্রান্স। এরপর সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে, ঘানার সঙ্গে ড্র করে এবং পানামাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। এরপর ডিআর কঙ্গো, মেক্সিকো ও নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলেও শেষ চারে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার অবশ্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখছে। তাদের ২৫ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম দুই দেখায় জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড (১৯৬৬ ও ১৯৮২)। তবে সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ নয় দেখায় ইংল্যান্ড মাত্র একবার জিতেছে, ছয়বার হেরেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
দলীয় খবরেও রয়েছে কিছু পরিবর্তন। চোটের কারণে ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা ও ব্রিস সাম্বা খেলতে পারবেন না। ইংল্যান্ডের জর্ডান হেন্ডারসন ছিটকে গেছেন, আর রিস জেমসকে নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। শিরোপার আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় দুই দলই একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকায় এমবাপ্পের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামও শেষবারের মতো ব্যক্তিগত অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।




















