অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে স্পেন। এর ফলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় লিওনেল স্কালোনির দলের।
কান্নাভেজা চোখে মেসির বিদায়, আর্জেন্টিনার হয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
- Update Time : 05:49:19 am, Monday, 20 July 2026
- / 34 Time View

মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে তিনি বলেছিলেন, সেটিই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে গত মাসে ৩৯ বছর বয়সে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।
ফাইনালের পর মেসি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আর্জেন্টিনা দলের অন্য খেলোয়াড়দের মতো তিনিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। স্কালোনিও জানান, মেসি জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
ফাইনালে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে তারা ২০টি শট নেয়, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র দুটি। পাসের সংখ্যাতেও স্পেন এগিয়ে ছিল ৮৪৫-৪৩৩ ব্যবধানে।
গোলদাতা ফেরান তোরেস বলেন, “মেসি প্রতিপক্ষ দলে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেদের খেলায় বিশ্বাস রেখেছি এবং সেটাই আবারও প্রমাণ করেছি।”
২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের পর এবারও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।
ফাইনালে স্পেনের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন মেসি। ম্যাচ শেষে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল মেসিকে যতটা সম্ভব প্রভাবহীন রাখা।”
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠার সময়ও তার মুখে হাসি দেখা যায়নি। স্পেনের ফুটবলাররা সম্মানসূচক গার্ড অব অনার দিলেও মেসির মুখে ছিল হতাশার ছাপ। পরে রৌপ্যপদক গ্রহণ করে নীরবে মাঠ ছেড়ে যান তিনি।
এদিকে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগে একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে স্পেন। আর স্বর্ণালি কনফেটির বৃষ্টির মধ্যে যখন স্পেনের উৎসব চলছিল, তখন মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়ে যাচ্ছিলেন মেসি—যার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়তো এই ফাইনালেই লেখা হয়ে গেল।






















