এবার ইরানে হামলা করলে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে দিলেন ট্রাম্প
- Update Time : 06:12:30 am, Tuesday, 9 June 2026
- / 158 Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ালে ইসরায়েলকে হয়তো একাই লড়াই করতে হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা কমার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় কোনো ধরনের অজ্ঞতা বা বোকামির স্থান নেই।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি বিবিকে বলেছি, তোমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা হয়ে যেতে হবে।’
রোববার (৭ জুন) ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালানোর পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। জবাবে সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিমান হামলা চালায়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সেই অধিকার প্রয়োগ করছে। নেতানিয়াহুর দাবি, তেহরানের সরকারকে জবাব দেওয়ার পর তারা আপাতত হামলা বন্ধ করেছে। তবে ইরান আবার হামলা চালালে ইসরায়েল পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দুই নেতার মধ্যকার উত্তেজনাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই মন্তব্য বিনিময় দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে একটি সাময়িক উত্তপ্ত আলোচনা। তবে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন যে ইসরায়েলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে তেল আবিব কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়া বসে থাকবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চলমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী। তাই লোহিত সাগরে জাহাজ আটক বা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের মতো যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য মার্কিন প্রশাসন দায়ী থাকবে। অন্যদিকে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন মাত্রা প্রদর্শিত হয়েছে, যা ইসরায়েলকে পুনরায় যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে।
উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান নিয়মিত বার্তা বিনিময় করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার সকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হামলাটি আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস বলেন, ট্রাম্পের মৌখিক সতর্কবার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বন্ধ করবে।





















