Dhaka 4:51 pm, Friday, 10 July 2026

ঘরে বন্যার পানি, সন্তানদের নিয়ে কালভার্টের ওপর অটোরিকশায় আশ্রয় নিয়েছেন মা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : 07:49:49 am, Friday, 10 July 2026
  • / 35 Time View

ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি। বিছানাপত্র ও আসবাবপত্র সবই ভিজে গেছে। দুই বছর বয়সী মেয়ে ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে কীভাবে নিরাপদে রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তসলিমা আক্তার। চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশপাশে একটি কালভার্ট ছাড়া নিরাপদ কোনো জায়গা ছিল না। সেখানে অনেকে গরু-ছাগল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দিনও নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সেখানে রেখেছিলেন। পরে সন্তানদের নিয়ে ওই অটোরিকশাতেই আশ্রয় নেন তসলিমা।

গত বুধবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই সন্তানকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাত কাটান তসলিমা আক্তার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও তাঁকে অটোরিকশাতেই দেখা যায়। সেখানেই খাবার খেয়েছেন তাঁরা। অটোরিকশার একটি আসনে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে ছিল তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ১৩ বছর বয়সী ছেলে বোরহান উদ্দিন। কালভার্টজুড়ে স্থানীয়দের ত্রিপল টাঙিয়ে গরু-ছাগল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখতে দেখা যায়। কালভার্টে আশ্রয় নেওয়া কয়েকটি পরিবার রান্না করা খাবার পেলেও বেশির ভাগ মানুষ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করেছেন। কলা, মুড়ি ও চিড়া ছিল তাঁদের প্রধান খাবার। অনেকেই বলেন, এমন পরিস্থিতির কথা আগে জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, পুকুর ও জলাশয়ে পানি ঢুকে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী এলাকার মানুষের চুলায় রান্না হচ্ছে না। দুই দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়েই কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার কিছু সময় বৃষ্টি বন্ধ থাকলেও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সারা দিন দুর্ভোগে কাটে। সরকারি ত্রাণ পর্যাপ্ত না থাকায় সবাই তা পাননি। ফলে খাবার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই। তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘বুধবার রাতে হঠাৎ পানি ভিটায় উঠে যায়। ক্রমশ পানি বাড়তে বাড়তে কোমরসমান হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে চোখেমুখে পথ না দেখে কালভার্টের ওপর গিয়ে নিজেদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আশ্রয় নিই। জানি না আর কত দিন এভাবে কাটবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নজির আহমদ বলেন, ‘আমাদের জীবনে এমন কষ্টের দিন আর আসেনি। পাহাড়ি ঢলে আমাদের জীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। খাবার আর পানি নিয়ে কষ্টে পড়ে গেছি। জানি না কখন এ কষ্টের শেষ হবে।’

সূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঘরে বন্যার পানি, সন্তানদের নিয়ে কালভার্টের ওপর অটোরিকশায় আশ্রয় নিয়েছেন মা

Update Time : 07:49:49 am, Friday, 10 July 2026

ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি। বিছানাপত্র ও আসবাবপত্র সবই ভিজে গেছে। দুই বছর বয়সী মেয়ে ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে কীভাবে নিরাপদে রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তসলিমা আক্তার। চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশপাশে একটি কালভার্ট ছাড়া নিরাপদ কোনো জায়গা ছিল না। সেখানে অনেকে গরু-ছাগল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দিনও নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সেখানে রেখেছিলেন। পরে সন্তানদের নিয়ে ওই অটোরিকশাতেই আশ্রয় নেন তসলিমা।

গত বুধবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই সন্তানকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাত কাটান তসলিমা আক্তার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও তাঁকে অটোরিকশাতেই দেখা যায়। সেখানেই খাবার খেয়েছেন তাঁরা। অটোরিকশার একটি আসনে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে ছিল তাঁর দুই বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ১৩ বছর বয়সী ছেলে বোরহান উদ্দিন। কালভার্টজুড়ে স্থানীয়দের ত্রিপল টাঙিয়ে গরু-ছাগল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রাখতে দেখা যায়। কালভার্টে আশ্রয় নেওয়া কয়েকটি পরিবার রান্না করা খাবার পেলেও বেশির ভাগ মানুষ শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করেছেন। কলা, মুড়ি ও চিড়া ছিল তাঁদের প্রধান খাবার। অনেকেই বলেন, এমন পরিস্থিতির কথা আগে জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হতো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার থেকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, শীলকূপসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, পুকুর ও জলাশয়ে পানি ঢুকে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী এলাকার মানুষের চুলায় রান্না হচ্ছে না। দুই দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়েই কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার কিছু সময় বৃষ্টি বন্ধ থাকলেও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সারা দিন দুর্ভোগে কাটে। সরকারি ত্রাণ পর্যাপ্ত না থাকায় সবাই তা পাননি। ফলে খাবার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই। তসলিমার স্বামী শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘বুধবার রাতে হঠাৎ পানি ভিটায় উঠে যায়। ক্রমশ পানি বাড়তে বাড়তে কোমরসমান হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে চোখেমুখে পথ না দেখে কালভার্টের ওপর গিয়ে নিজেদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আশ্রয় নিই। জানি না আর কত দিন এভাবে কাটবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নজির আহমদ বলেন, ‘আমাদের জীবনে এমন কষ্টের দিন আর আসেনি। পাহাড়ি ঢলে আমাদের জীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। খাবার আর পানি নিয়ে কষ্টে পড়ে গেছি। জানি না কখন এ কষ্টের শেষ হবে।’

সূত্র: প্রথম আলো