জন্মশহর মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আজ, চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ইমাম রেজার সমাধির পাশে
- Update Time : 05:33:25 am, Thursday, 9 July 2026
- / 33 Time View

ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের নাজাফ শহরে মানুষের ঢল নামে। একইভাবে কারবালাতেও হাজারো মানুষ তাঁকে বিদায় জানাতে জড়ো হন। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে শোকানুষ্ঠান শেষে আজ বৃহস্পতিবার খামেনিকে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ খামেনি নিহত হন। এরপরই তাঁর দাফনের কথা থাকলেও যুদ্ধের তীব্রতার কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর তাঁকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার।
সে অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। শুক্র, শনি ও রোববার খামেনির কফিন রাখা হয় তেহরানের প্রধান মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায়। সোমবার মরদেহ নেওয়া হয় ইরানের কোম শহরে। সেখান থেকে উড়োজাহাজে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। আজ তাঁকে শিয়া ইমাম রেজার সমাধির পাশে দাফন করা হবে।
এমন এক সময়ে ইরাকে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মাসে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা সময়ের অপচয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। ওই জলপথে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দায় ইরানের ওপর দেওয়া হলেও তা অস্বীকার করে তেহরান। পরে মার্কিন বাহিনী জানায়, জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালায়।
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় তিনি এই শহরেই কাটান। এখানকার ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা নিতে কোমে যান। ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
শোকানুষ্ঠানের শুরু থেকেই খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। ইরাকেও একই চিত্র দেখা গেছে। নাজাফের শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মোহাম্মদ আল-বায়াতি বলেন, ‘যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর শেষকৃত্যে আমি না এসে থাকতে পারতাম না।’ আর ২৭ বছর বয়সী মুরতাদা আল-মালিকি বলেন, খামেনি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।
খামেনির মরদেহবাহী শোকযাত্রা উপলক্ষে গতকাল ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ভোর থেকেই তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ নাজাফের রাস্তায় জড়ো হন। অনেকেই ট্রাকের পেছনে রাখা মরদেহবাহী কফিন স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। শোকযাত্রার গন্তব্য ছিল হজরত আলী (রা.)–এর সমাধি। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা।
শোকযাত্রা সমাধিতে পৌঁছানোর পর সেখানে আজানের ধ্বনি শোনা যায়। সাদা ও কালো পাগড়ি পরা শত শত ধর্মীয় নেতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন খামেনির জানাজায় অংশ নিতে। পরে কফিন সমাধির ভেতরের অংশে নেওয়া হয়। নাজাফে এটিই ছিল শোকযাত্রার শেষ গন্তব্য। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের আরেক পবিত্র শহর কারবালায়।
শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া হায়দার জাফার বলেন, ইরান ইরাকে যে নীতি বাস্তবায়ন করতে চায়, তিনি তার সমর্থক নন। তবু তিনি সেখানে এসেছেন, কারণ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করেছে।





















