Dhaka 10:51 am, Tuesday, 19 May 2026

আসছে ‘র‌্যাব আইন’, বিবেচনায় নাম পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • Update Time : 12:26:35 pm, Monday, 18 May 2026
  • / 56 Time View

ফাইল ছবি

আগামী দিনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাবকে জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের লক্ষে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অভিযান পরিচালনার সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করে ন্যূনতম বল প্রয়োগ, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ ও অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। এ লক্ষে অতি শিগগিরই জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ফোর্সেসের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া অপরাধের ধরন বিবেচনায় সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ, জনআস্থা অর্জন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘র‍্যাব আইন’ প্রণয়ন করা হবে। এমনকি র‍্যাবের বিদ্যমান নাম পরিবর্তনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সরকারের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাবে না।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সুনাম ও গৌরব বজায় রেখে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা প্রমাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে এই এলিট ফোর্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং তখন র‍্যাবকে কেবল মূল উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় এটিকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার এটিকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং স্বাগত বক্তব্য দেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানসহ সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আসছে ‘র‌্যাব আইন’, বিবেচনায় নাম পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 12:26:35 pm, Monday, 18 May 2026

আগামী দিনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাবকে জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের লক্ষে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অভিযান পরিচালনার সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করে ন্যূনতম বল প্রয়োগ, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ ও অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। এ লক্ষে অতি শিগগিরই জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ফোর্সেসের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া অপরাধের ধরন বিবেচনায় সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ, জনআস্থা অর্জন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘র‍্যাব আইন’ প্রণয়ন করা হবে। এমনকি র‍্যাবের বিদ্যমান নাম পরিবর্তনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সরকারের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাবে না।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সুনাম ও গৌরব বজায় রেখে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা প্রমাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে এই এলিট ফোর্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং তখন র‍্যাবকে কেবল মূল উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় এটিকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার এটিকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং স্বাগত বক্তব্য দেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানসহ সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।