লক্ষ্মীপুরে নির্যাতনে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগ, মর্গে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
- Update Time : 05:19:42 am, Saturday, 27 June 2026
- / 62 Time View

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিহত সামিয়া রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার দেলোয়ার হোসেন বতার বড় মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, হাফিজ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়ার সঙ্গে হাফিজ মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এছাড়া হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে মারধর ও নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সামিয়ার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে মারধরের পর জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হাফিজ মোল্লা হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সামিয়ার মরদেহ তার বাবার বাড়ি জয়নগর এলাকায় পৌঁছালে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় অভিযুক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন।
নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই হাফিজ তার মেয়ের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় তিনি ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে বিষক্রিয়াজনিত কারণে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























