গ্রিলে ঝুলছিল মাদ্রাসাছাত্রের লাশ, অচেতন স্কুলছাত্রীর হাসপাতালে মৃত্যু— কী বলছে পুলিশ
- Update Time : 05:06:19 am, Monday, 6 July 2026
- / 45 Time View

রাজধানীতে পৃথক দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় এক মাদ্রাসাছাত্র ও এক স্কুলছাত্রী মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাতিঝিলের একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী এক হিফজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মুগদায় বিষপানে অচেতন এক স্কুলছাত্রীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।
রাজধানীর হাতিঝিলের আল-ফুরকান মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে তাহমিদুল ইসলাম (১০) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রবিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত তাহমিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর (কামীপুর) এলাকার মো. শাহিন রেজার ছেলে। তিনি রামপুরার মহানগর প্রজেক্টের ২ নম্বর সড়কের আল-ফুরকান মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হাতিঝিল (মাতিরঝিল) থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া জানান, রামপুরা ডিআইটি রোডের বেটার লাইফ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে তাহমিদুলের বাবা, একজন শিক্ষক ও মাদ্রাসার বাবুর্চি আম কিনতে বাজারে যান। ফিরে এসে তারা দেখতে পান, জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে তাহমিদুল। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, নিহত শিশুর বাবা শাহিন রেজা পুলিশকে জানান, মাদ্রাসার ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাহমিদুলকে প্রথমে সহপাঠীসহ অন্যরা দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই সুমন মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে রাজধানীর মুগদা থানাধীন একটি বাসায় মরিয়ম আক্তার সুবর্ণা (১৫) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ কামাল জানান, বিকেলের দিকে খবর পেয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, পারিবারিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে মরিয়ম আক্তার বিষপান করেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মরিয়ম আক্তার সুবর্ণা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের মো. মামুনের মেয়ে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মুগদার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এছাড়াও রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর এলাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রাজ্জাক হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজ্জাক হোসেন মোহাম্মদপুরের সূচনা ভবনের পাশের এলাকার বাসিন্দা ফকির চানের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
মৃতের স্বজন হারিফুল ইসলাম সিফাত জানান, রাজ্জাক হোসেন তার বড় ভাইয়ের শ্বশুর। রবিবার সকালে তিনি আজিমপুরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে যান। দুপুরের দিকে ভবনের ছাদে ওঠেন। পরে সেখান থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে রুম্পা ইসলাম বলেন, ‘বাবা দুপুরে ছাদে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে অসাবধানতাবশত হয়তো নিচে পড়ে গেছেন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।











