Dhaka 12:34 am, Tuesday, 26 May 2026

ঈদযাত্রা: মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ আছে, তবে যানজট নেই

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • Update Time : 08:22:54 am, Monday, 25 May 2026
  • / 46 Time View

কর্মদিবস থেকে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা এবং যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায়, ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।
সকালে তিনটি ট্রেন রাজধানী থেকে বিলম্বে যাত্রা করলেও, রাত পর্যন্ত শিডিউল ঠিক ছিল। আজ সোমবার অধিকাংশ কলকারাখানায় ছুটি হবে; তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। গত বছরও পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাপক ভোগান্তি হয়েছিল আগের দুই দিনে। এবারও সোম ও মঙ্গলবার যানজটের শঙ্কা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের অধিকাংশ কলকারখানা আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার ছুটি হবে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়।  প্রতি ঈদেই এখানে দীর্ঘ যানজট হয়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল গতকাল রাত ১০টার দিকে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। চালক ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছিল না।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশেও বিকেলের পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের ফলে  যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে নির্মাণকাজের মাটি ও বালুতে কাদা হয়ে রূপগঞ্জের বরপা ও ভূলতা এলাকায় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের খানাখন্দের গাড়ি গতি কমে দুর্ভোগ হচ্ছে।
মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা সন্তুষ্ট
ট্রেনের যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করে সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভে  (ইঞ্জিন) সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
গতকাল ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটসহ ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের চাহিদা থাকে।
কমলাপুরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন ট্রেনে উঠব, তা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে।’
সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি তাই ঢাকাতে দেরিতে এসেছে। ফলে  কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয়, যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈদযাত্রা: মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ আছে, তবে যানজট নেই

Update Time : 08:22:54 am, Monday, 25 May 2026

কর্মদিবস থেকে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা এবং যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায়, ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।
সকালে তিনটি ট্রেন রাজধানী থেকে বিলম্বে যাত্রা করলেও, রাত পর্যন্ত শিডিউল ঠিক ছিল। আজ সোমবার অধিকাংশ কলকারাখানায় ছুটি হবে; তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। গত বছরও পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাপক ভোগান্তি হয়েছিল আগের দুই দিনে। এবারও সোম ও মঙ্গলবার যানজটের শঙ্কা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের অধিকাংশ কলকারখানা আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার ছুটি হবে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়।  প্রতি ঈদেই এখানে দীর্ঘ যানজট হয়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল গতকাল রাত ১০টার দিকে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। চালক ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছিল না।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশেও বিকেলের পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের ফলে  যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে নির্মাণকাজের মাটি ও বালুতে কাদা হয়ে রূপগঞ্জের বরপা ও ভূলতা এলাকায় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের খানাখন্দের গাড়ি গতি কমে দুর্ভোগ হচ্ছে।
মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা সন্তুষ্ট
ট্রেনের যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করে সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভে  (ইঞ্জিন) সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
গতকাল ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটসহ ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের চাহিদা থাকে।
কমলাপুরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন ট্রেনে উঠব, তা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে।’
সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি তাই ঢাকাতে দেরিতে এসেছে। ফলে  কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয়, যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে।