ভারতের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে একনেকে পাস ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প
- Update Time : 12:52:09 pm, Tuesday, 16 June 2026
- / 29 Time View

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের আগে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকার ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ দেবে। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আনোয়ারাভিত্তিক এই চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ১ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বস্ত্র, ওষুধ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের সরকারের (জিটুজি) সমঝোতার ভিত্তিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আশা করছে, এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৪ সালে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেজার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি স্থবির ছিল।
প্রাথমিকভাবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় কাজ এগোয়নি। পরে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনয়নে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বেজা জানিয়েছে, সিআরবিসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড ও ৩৩০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু, ১,১৮১ মিটার ফোর-লেন সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন হ্যান্ডলিং সক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর।
বেজা সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি চূড়ান্ত হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় দেশই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।





















