গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া: কমিশন নয়, তদন্তের ক্ষমতা আবারও যাচ্ছে পুলিশের হাতে
- Update Time : 07:24:23 am, Monday, 15 June 2026
- / 43 Time View

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়াটি প্রস্তুত করেছে। এর ফলে কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তা সংশ্লিষ্ট বাহিনীই তদন্ত করবে।
তবে আইনজ্ঞরা এই বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ও পরে বাতিল হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মতো অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া যৌক্তিক ছিল। তাঁদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাঁদের নিজেদের দিয়ে তদন্ত করালে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিভিন্ন বাহিনীর হাতে গুমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ওই অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটি বিল হিসেবে উত্থাপিত না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। এরপর আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন আইনের এই খসড়া তৈরি করা হয়।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ বলেন, “যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে তদন্ত রাখলে তেমন কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দিয়ে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। সেটাই ঠিক ছিল। ডিজিএফআই, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ কি তদন্ত করতে পারবে? সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনকে দিয়ে তদন্ত করানো উচিত।”
২০২৫ সালের অধ্যাদেশে অভিযোগ সরাসরি কমিশনে দাখিল বা থানার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে পাঠানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন আইনের খসড়ার ১৪(১) ধারায় অভিযোগ গ্রহণের ক্ষমতা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়া হয়েছে এবং ১৯ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ আদালতে বিচারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “এই আইনের খসড়ার এসব বিধান হচ্ছে আমলাদের বা পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর একটা বাহানা।” তিনি অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা স্বাধীন কমিশনের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন যেকোনো কারাগার বা আটকস্থল পরিদর্শন, তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা রাখত। নতুন খসড়ার ১৬(১) ধারা অনুযায়ী, আদালত নির্দিষ্ট নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন। এছাড়া আগের অধ্যাদেশের ২৪ ধারা অনুযায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য কমিশনকে তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা দেওয়া হলেও নতুন খসড়ার ৩০ ধারায় এই ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, “খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত চাওয়া হচ্ছে না। পুলিশ কি ডিজিএফআইয়ের কারও বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে? আগের অধ্যাদেশে তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করেন, কমিশনকেই তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া উচিত।”























