রাউজানে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, সবাই বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত
- Update Time : 07:04:37 am, Monday, 15 June 2026
- / 43 Time View

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশি অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের কাছে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রায়হান বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দলনেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদেরও বুঝতে হবে, দাগি সন্ত্রাসীদের বুঝেশুনে কাছে টানতে হবে। আমি সন্ত্রাসীদের পক্ষে নই। আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি। যুবদল নেতা মাকসুদুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাউজানে যারা চাঁদাবাজি করে, মানুষ খুন করে তাদের পুলিশ ধরছে না কেন? অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করতে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।”
গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃতদের মধ্যে রয়েছে কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার মোহাম্মদ ইউসুফ এবং রাউজান সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। পুলিশের তথ্যমতে, সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে ২৪টি, দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং ইউসুফের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাউজানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা সেখানেই পালিয়ে যায়। হত্যার কারণ হিসেবে কর্ণফুলী নদীতে বালু উত্তোলন ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্যের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন জানান, পরিবার এখন শোকাহত এবং তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার আসরের নামাজের পর চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।























