Dhaka 2:34 am, Wednesday, 13 May 2026
ইইউ নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ

আন্তর্জাতিক নির্দেশ ডেস্ক
  • Update Time : 02:23:12 pm, Tuesday, 12 May 2026
  • / 18 Time View

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় জোটটি।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘অচলাবস্থা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণতি রয়েছে।’

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, ‘পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়া প্রধান ইসরায়েলি সংগঠন ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের জবাবে নেওয়া এ পদক্ষেপ এতদিন আটকে ছিল হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে। তবে জাতীয়তাবাদী ও ইসরাইলপন্থী এ নেতা ক্ষমতা হারানোর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগইয়ার দায়িত্ব নেওয়ায় ভেটো প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়।

ইইউ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজন বসতি স্থাপনকারী বা বসতি স্থাপনকারী সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস-এর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে জোটটি।

এদিকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামেন নেতানিয়াহুর দপ্তরের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানসহ বিভিন্ন স্থানে জিহাদি উন্মাদনার বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলি নাগরিক ও হামাসের মধ্যে মিথ্যা সমতা টেনে নিজেদের নৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তারা আত্মরক্ষাকারীদের হাত বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার অভিযোগ করেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইসরাইলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই সময়ের পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রাণঘাতী হামলাও বেড়েছে।

তবে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নিলেও, ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো আরও কঠোর পদক্ষেপে এখনো ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

ইইউ নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইইউ

Update Time : 02:23:12 pm, Tuesday, 12 May 2026

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় জোটটি।

ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘অচলাবস্থা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণতি রয়েছে।’

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো জানান, ‘পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়া প্রধান ইসরায়েলি সংগঠন ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের জবাবে নেওয়া এ পদক্ষেপ এতদিন আটকে ছিল হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে। তবে জাতীয়তাবাদী ও ইসরাইলপন্থী এ নেতা ক্ষমতা হারানোর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগইয়ার দায়িত্ব নেওয়ায় ভেটো প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়।

ইইউ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতজন বসতি স্থাপনকারী বা বসতি স্থাপনকারী সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস-এর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে জোটটি।

এদিকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামেন নেতানিয়াহুর দপ্তরের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানসহ বিভিন্ন স্থানে জিহাদি উন্মাদনার বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলি নাগরিক ও হামাসের মধ্যে মিথ্যা সমতা টেনে নিজেদের নৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তারা আত্মরক্ষাকারীদের হাত বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার অভিযোগ করেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইসরাইলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই সময়ের পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রাণঘাতী হামলাও বেড়েছে।

তবে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নিলেও, ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো আরও কঠোর পদক্ষেপে এখনো ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।