২০২৪ এর অক্টোবরে ঢাকায় এআই ক্যামেরার উদ্যোগ এবং টেন্ডার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের,
বিএনপি না, ঢাকায় এআই ক্যামেরার উদ্যোগ এবং টেন্ডার ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের,
- Update Time : 07:45:57 am, Monday, 18 May 2026
- / 37 Time View

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ফলে রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন। দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না। এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না।
বিএনপি সরকার ঢাকায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) এর মাধ্যমে ঢাকায় ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট খুব সফলতার সাথেই করছে। এআই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে সড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা। এতে নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির ব্যাপক সুনাম করছেন এবং সফলতা হিসেবেই উল্লেখ করছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি না, ঢাকায় এআই ক্যামেরার উদ্যোগ এবং টেন্ডার ছিল অন্তবর্তীকালীন সরকারের। আর এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৪ এর অক্টোবরে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরেই ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেয় ড: ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার।এ লক্ষ্যে ঢাকার গুলশান-২ গোলচত্বর এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও চালানো হয়। দেখা যায়, সে সময় ট্রাফিক সিগন্যালে বিভিন্ন যানবাহনকে শনাক্ত করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই ক্যামেরা। ট্রাফিক আইন ভাঙা এসব গাড়ির তথ্য চলে আসছে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে। গুলশান-২ এ এসব ক্যামেরা বসানোর পর বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করে আশপাশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল।
তবে এইআই ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ অন্তবর্তীকালীন সরকার বা বিএনপি যারই হোক, ঢাকায় ট্রাফিক কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরায় খুশি নগরবাসী। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম উল ইসলাম বলেন, লাল বাতি জ্বলছে আর সমস্ত গাড়ি থেমে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকায় সড়কের অব্যবস্থাপনা একটু হলেও কমবে। এদিকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা চলে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাইকচালক সোহল রানা বলেন, “প্রথম দিন বুঝি নাই। ২০০০ টাকার একটা মামলার মেসেজ পাইলাম। এখন খুব সতর্ক থাকি।”
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিগন্যালগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের সিগনাল মানার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চালকরা সিগন্যাল না মানলে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই কার্যকর হবে না।” বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “বর্তমানে সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন ভায়োলেশন বা বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এতে সড়কে অতিরিক্ত যানজট তৈরি হয়, কারণ একটি গাড়ি থামালে পেছনের গাড়িগুলোও আটকে পড়ে। একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে চালক ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়ে সময়ক্ষেপণ হয়।”
তিনি বলেন, “এছাড়া ভিআইপি যানবাহনের ক্ষেত্রে অনেক সময় আইন প্রয়োগে দ্বিধা তৈরি হওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব কারণে সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”




















