Dhaka 4:02 am, Monday, 19 October 2026

সওজে বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের চরিত্র হননে সক্রিয় ফ্যাসিস্ট চক্র

Reporter Name
  • Update Time : 08:36:06 pm, Sunday, 18 October 2026
  • / 18 Time View

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। হাজারখানেক প্রকৌশলী এখানে বিভিন্ন স্তরে—প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ নানা পদে—অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা স্বাভাবিক। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার শাসনামলে যারা এই প্রতিষ্ঠানটিকে লুটপাটে আখড়া বানিয়েছেন তারা ফের সক্রিয় হতে চালাচ্ছে তথ্য সন্ত্রাস। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মত থাককেই পারে, কিন্তু যখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়, ক্ষমতার জোরে অন্যদের কণ্ঠরোধ করা হয়, কিংবা একটি নির্দিষ্ট চক্র প্রকৌশলীদের ওপর নানা তকমা ও দলীয় ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানি করে প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়—তখন সেটা আর স্বাভাবিক থাকে না।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসনের কিছু অনুসারী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সওজের কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর পেছনে লেগেছে। তাদের মূল লক্ষ্য—চরিত্র হনন করে নিজেদের পক্ষে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং টেন্ডার ম্যানিপুলেশনের সুযোগ তৈরি করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে আজাদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুদ্দিনসহ প্রায় ৫০ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা দ্য টাইমস অব ঢাকাকে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা বিধিমালার কারণে তাঁরা এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারছেন না। ফলে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এই চক্রটি আসলে কী চায়? সড়ক ভবনে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, নিজেদের পছন্দের লোকদের এগিয়ে দেওয়া এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। এর জন্য তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু প্রকৌশলীকে ‘বিএনপি/জামাত /আওয়ামীপন্থী’ তকমা দিয়ে চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে। অথচ সত্য হলো—পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করা প্রকৌশলীদের ওপর এভাবে দলীয় তকমা লাগিয়ে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সওজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় বিভেদ ও চরিত্র হননের বিষাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। অন্যথায় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভিত্তিহীন গুজব ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা।

 

বিশেষ করে সেই গুপ্ত ফ্যাসিস্ট চক্রটি উঠে পড়ে লেগেছে সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সওজ প্রকৌশলী সমিতির সভাপতির চরিত্র হননে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য এদেরকে হাতের পুতুল বানিয়ে সড়ক ভবনে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসবের নেপথ্য কারিগরদের নাম পরিচয় ও নীল নকশার আদ্যপ্রান্ত নিয়ে আসছে দ্যা টাইমস অফ ঢাকার অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব……

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সওজে বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের চরিত্র হননে সক্রিয় ফ্যাসিস্ট চক্র

Update Time : 08:36:06 pm, Sunday, 18 October 2026

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। হাজারখানেক প্রকৌশলী এখানে বিভিন্ন স্তরে—প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ নানা পদে—অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা স্বাভাবিক। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার শাসনামলে যারা এই প্রতিষ্ঠানটিকে লুটপাটে আখড়া বানিয়েছেন তারা ফের সক্রিয় হতে চালাচ্ছে তথ্য সন্ত্রাস। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মত থাককেই পারে, কিন্তু যখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়, ক্ষমতার জোরে অন্যদের কণ্ঠরোধ করা হয়, কিংবা একটি নির্দিষ্ট চক্র প্রকৌশলীদের ওপর নানা তকমা ও দলীয় ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানি করে প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়—তখন সেটা আর স্বাভাবিক থাকে না।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসনের কিছু অনুসারী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সওজের কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর পেছনে লেগেছে। তাদের মূল লক্ষ্য—চরিত্র হনন করে নিজেদের পক্ষে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং টেন্ডার ম্যানিপুলেশনের সুযোগ তৈরি করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে আজাদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুদ্দিনসহ প্রায় ৫০ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা দ্য টাইমস অব ঢাকাকে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা বিধিমালার কারণে তাঁরা এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারছেন না। ফলে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এই চক্রটি আসলে কী চায়? সড়ক ভবনে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, নিজেদের পছন্দের লোকদের এগিয়ে দেওয়া এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। এর জন্য তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু প্রকৌশলীকে ‘বিএনপি/জামাত /আওয়ামীপন্থী’ তকমা দিয়ে চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে। অথচ সত্য হলো—পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করা প্রকৌশলীদের ওপর এভাবে দলীয় তকমা লাগিয়ে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সওজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলীয় বিভেদ ও চরিত্র হননের বিষাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। অন্যথায় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভিত্তিহীন গুজব ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা।

 

বিশেষ করে সেই গুপ্ত ফ্যাসিস্ট চক্রটি উঠে পড়ে লেগেছে সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সওজ প্রকৌশলী সমিতির সভাপতির চরিত্র হননে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য এদেরকে হাতের পুতুল বানিয়ে সড়ক ভবনে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসবের নেপথ্য কারিগরদের নাম পরিচয় ও নীল নকশার আদ্যপ্রান্ত নিয়ে আসছে দ্যা টাইমস অফ ঢাকার অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব……