তিতাসে প্রবীণ ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে হত্যা মামলা দেওয়ার অপচেষ্টা! এলাকাবাসীর দাবি—এটি হৃদরোগে মৃত্যু
- Update Time : 04:32:05 am, Monday, 16 June 2025
- / 276 Time View

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মৌটুপী গ্রামে মো. পণ্ডিত সরকার (৭৫) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি একটি প্রাকৃতিক মৃত্যু হলেও একটি মহল এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার ১৪/০৬/২০২৫ দুপুরে। ওইদিন জার্মান প্রবাসী ছবির হোসেন ও স্থানীয় হোসেন মিয়ার সঙ্গে পণ্ডিত সরকারের বাড়ির পাশে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে পরিমাপ করা হয়। জমির পরিমাপে সামান্য মতানৈক্য হলেও কোনো ধরনের শারীরিক বা মৌখিক সংঘর্ষ হয়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সীমানা নির্ধারণে সমাধান না হওয়ায় উভয়পক্ষ নিজেদের মতো করে ফিরে যায়।
এরপর আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পণ্ডিত সরকার নিজ বাড়ির আঙিনায় চেয়ারে বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং শুয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্যে—এটি স্বাভাবিক মৃত্যুঃ
মৃত ব্যক্তির স্ত্রী মোসাঃ নুর জাহান (৬৮) বলেন, “দুপুরে জায়গা মাপার সময় আমার স্বামী নিজেই বলেন, দলিল অনুযায়ী জায়গা বুঝে নিতে হবে। সেখানে কেউ ঝগড়া করেনি বা আঘাত করেনি। সন্ধ্যায় হঠাৎ তিনি বলেন, বুকে ব্যথা করছে। তারপরই অচেতন হয়ে পড়েন।”
এলাকাবাসীর দাবি, পণ্ডিত সরকার আগে থেকেই হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ছিল।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মাজেদুল ইসলাম মন্টু বলেন, “আমরা জায়গা পরিমাপ শেষে নিজেদের মতো চলে আসি। বিকালে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের একটি দরবার ছিল। সেখানেই অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ শুনি পণ্ডিত চাচাকে নাকি ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। অথচ এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”
জার্মান প্রবাসী ছবির হোসেন বলেন, “পণ্ডিত ভাইয়ের সঙ্গে বিকেলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে এসেছি। তিনি সুস্থ ছিলেন। সন্ধ্যায় মৃত্যুর খবর পাই। এরপর শুনি, আমাদের নামে হত্যা মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচার দাবি করছি, কিন্তু অহেতুক কাউকে ফাঁসানো কাম্য নয়।”
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্যঃ
তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পণ্ডিত সরকারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। প্রথমে তার পরিবার তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেও, এক ঘণ্টা পর আবার হাসপাতালে এনে পুলিশকে খবর দেয়।”
তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদ উল্যাহ জানান, “নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
গণমানুষের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগঃ
এলাকাবাসী মনে করছেন, একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে। তারা বলছেন, কোনো ধরনের প্রমাণ বা আঘাতের চিহ্ন না থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা করতে চাইছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
তারা দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান এবং প্রশাসনের প্রতি সঠিক তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংক্ষেপে:
এই ঘটনা তিতাসের একটি বড় সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, চিকিৎসক, পুলিশ ও এলাকার লোকজন যেখানে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলছেন, সেখানে কিছু পক্ষ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে চালানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত — যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।



















