ইরানের সঙ্গে চুক্তির নথি ইসরায়েলকে দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র, অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প
- Update Time : 10:26:40 am, Wednesday, 17 June 2026
- / 53 Time View

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের মূল লিখিত পাঠ্য বা টেক্সট দেখার জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চুক্তির সাধারণ বিষয়গুলো সম্পর্কে মৌখিকভাবে ধারণা দেওয়া হলেও সমঝোতার মূল দাপ্তরিক অনুলিপি তেল আবিবকে দেওয়া হয়নি। রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ডিজিটাল উপায়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এই সমঝোতা স্মারকের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন। ভ্যান্স বলেন, এই নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারছে। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতির অংশ হিসেবে সেই চুক্তি বাতিল করে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ফ্রান্সে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করবেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি শিগগিরই একটি সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির প্রতিটি শব্দ পড়ে শোনাতে পারেন, যাতে গণমাধ্যম তা সঠিকভাবে প্রচার করতে পারে।
ইসরায়েলকে চুক্তির মূল পাঠ্য না দেওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে নতুন এই চুক্তি মূলত ইরানের পক্ষে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি। ইসরায়েলের সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনথ ইতোমধ্যে এই সমঝোতাকে একটি অত্যন্ত খারাপ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান একটি স্থানীয় রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, এই সমঝোতা ইরানকে একটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত করবে। এদিকে চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনা বা অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমিরের পাশে বসে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না এবং অনেক আগেই দেশটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।






















